রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একটি সরকারি পুকুর দখলে রেখে মাছ চাষ করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসলামের বিরুদ্ধে। আট মাসের জন্য পাঁচ লাখ টাকায় পুকুরটি লিজ দেওয়ার কথা থাকলেও চুক্তির অর্থ পরিষদে জমা না দিয়েই মাছ চাষ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুকুরটিতে পরিষদের নামে মাছ চাষ করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম আট মাসের জন্য পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে পুকুরটি আসলামকে লিজ দেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু ওই চুক্তির টাকা পরিষদের কোষাগারে জমা পড়েনি বলে অভিযোগ।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, লিজের টাকা পরিশোধ ও পুকুরের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আসলামকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি টাকা জমা দিচ্ছেন না, দখলও ছাড়ছেন না। চেয়ারম্যানের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুকুরটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত প্রতিকার মেলেনি বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসলাম মুঠোফোনে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো পুকুর তাঁর কাছে নেই এবং মারিয়া ইউনিয়ন পরিষদেরও কোনো পুকুর নেই। পুকুর নিয়ে কোনো ঝামেলার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে চাইলে পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুকুরটি পরিষদের সম্পত্তি হলে নিয়ম মেনেই ইজারা দেওয়া উচিত; কে কোন দলের, সেটি বিবেচ্য নয়। আরেকজন বাসিন্দার মতে, লিজের টাকা দেওয়া হয়েছে কি না, চুক্তিতে কী ছিল এবং পুকুরের প্রকৃত আয়তন কত—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার; প্রশাসনের উচিত নথিপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বাগমারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, এভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পুকুরটি প্রকাশ্য দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলে সরকার রাজস্ব পাবে এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর মধ্যেই পুকুরটি উদ্ধারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।