যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো চীনের দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে উন্নত এনভিডিয়া গ্রাফিক চিপ অবৈধভাবে চীনে পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চুয়ান গেং ও শিউয়েই ইয়াং 'ইচ্ছাকৃত ও সচেতনভাবে' যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট ২০২৫) এক বিবৃতিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার এল মন্টে শহরে অবস্থিত তাদের নিজস্ব কোম্পানি ALX Solutions Inc. ব্যবহার করে এনভিডিয়ার উন্নত গ্রাফিক প্রসেসিং ইউনিট (GPU)—বিশেষ করে AI চিপ—চীনে পাঠিয়েছেন। এসব চিপের বাজারমূল্য দশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
রপ্তানি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তারা অন্তত ২১টি চালান সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করেছেন, যার মধ্যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে Nvidia H100 চিপের একটি চালান ছিল—যেটি বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী চিপ হিসেবে বিবেচিত। ওই চালান মিথ্যা লেবেলিংসহ পাঠানো হয় এবং এতে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অনুমতিপত্রও ছিল না।
বিচার বিভাগের তথ্যমতে, ALX Solutions চীন ও হংকংয়ের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ পেয়ে থাকে, যাদের মধ্যে একটি চীনা কোম্পানি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিল। অথচ পণ্য গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল অন্য।
গত সপ্তাহে ALX Solutions-এর অফিস ও চুয়ান গেং ও ইয়াং-এর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে বেশ কিছু আপত্তিকর বার্তা পাওয়া যায়। সেগুলোতে মালয়েশিয়ার মাধ্যমে চিপ পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার উল্লেখ ছিল।
এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে দুইজনেরই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সংস্কার আইন (Export Control Reform Act) অনুযায়ী ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এদিকে এনভিডিয়া তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, "চিপ চোরাচালান কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আমরা সাধারণত পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের কাছেই পণ্য বিক্রি করি, যারা মার্কিন রপ্তানি বিধিমালা মেনে চলেন।"
এনভিডিয়া আরও জানায়, “এমনকি ক্ষুদ্র চালান ও ছোট রপ্তানিকারকরা কঠোর পর্যালোচনার আওতায় আসে। অনুমোদনহীন পণ্য কোনো সেবা, সহায়তা বা আপডেট পাবে না।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি আধিপত্য নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সরকার চীনের প্রতি উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই বিধিনিষেধ প্রয়োজনীয়।
চীন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রযুক্তিপণ্যের রপ্তানিতেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বিশ্ববাণিজ্য নীতির অপব্যবহার ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রাখার অভিযোগ এনেছে।
সম্প্রতি এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর H20 মডেলের চিপ চীনে রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে দেশগুলোকে মার্কিন প্রযুক্তিকে বেছে নিতে উৎসাহিত করবে।”