চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি সাক্ষাৎ করেছেন। জাপানের স্থানীয় সময় বেলা তিনটায় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আসোর ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬ সালে জাপান সফরের সময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তিনি স্মরণ করেন। দুই পক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়। এরপর বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে জাপানের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে ২২ অক্টোবর জাপানের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জাপান সম্মত হতে পারে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত প্রতিষ্ঠানগুলোও এ পরিকল্পনার অংশ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অঞ্চল উন্নয়নে সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি পক্ষ যুক্ত রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) ও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরাসহ বড় জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মূল বক্তব্য দেবেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ সফরের অন্যতম লক্ষ্য।