রাজশাহীর বাগমারায় মাদকবিরোধী অভিযান ও অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের কার্যক্রমের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে বাগমারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আইডিটি শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা এবং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভা এবং গোয়ালকান্দি, বড়বিহানালী ও গণিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়। ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি পুকুর খনন নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া ও পক্ষপাতমূলক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও প্রচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রচারণায় উল্লিখিত কয়েকটি পুকুরে ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা দেওয়া হয়েছে।
ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কাম্য নয়। ইউএনও রিজু তামান্না বলেন, এসব উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; অপরাধ প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে কারও প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তা জানানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।