সুন্দরবনের সুরক্ষা ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বাগেরহাটের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জেলার মানুষ নানা সংকটে আছেন।
বৃহস্পতিবার বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার ধানসিঁড়ি মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেটে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা অন্তর্ভুক্তিকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে এ দাবি জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় একশনএইডের সুশীল প্রকল্পসহ আয়োজকদের উদ্যোগে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলম সুপেয় পানির সংকট নিরসনে মোল্লাহাট উপজেলার মধুমতী নদী থেকে পাইপলাইনে পানি এনে সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাঁধ দিয়ে কিছু জমি রক্ষা পেলেও পানির কোনো ব্যবস্থা হয়নি। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শেখ ইউনুস আলী বলেন, চারটি উপকূলীয় উপজেলায় লবণাক্ততার প্রভাব সবচেয়ে বেশি; কাঁচা মাটির বেড়িবাঁধ স্থায়ী হচ্ছে না এবং অনেক এলাকায় এখনো বাঁধই নেই। সুজনের বাগেরহাট শাখার সম্পাদক এস কে এ হাসিব বলেন, আগামরা রোগে সুন্দরবন থেকে সুন্দরীগাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
বাগেরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ বলেন, এখানে সবার আগে দরকার সুপেয় পানি এবং অন্য অনেক এলাকার চেয়ে বাগেরহাটে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদ্রোগের মতো রোগের প্রকোপ বেশি। সিপিবির জেলা কমিটির সদস্য বেলাল হোসাইন বলেন, এক জেলায় সুন্দরবন ও ঐতিহাসিক মসজিদ—দুটি বিশ্ব–ঐতিহ্য রয়েছে। একজন বক্তা রামপালের কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে সুন্দরবনের ভেতরে এলএনজি টার্মিনালের আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হাওলাদার মনিরুজ্জান বলেন, বিসিক শিল্পনগরী ধ্বংসের পথে, অনেক কারখানা বন্ধ এবং দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলাও জাতীয় অর্থনীতিতে সেভাবে ভূমিকা রাখছে না। বেসরকারি সংস্থা আইআরবির সমন্বয়কারী কাজী জাভেদ খালিদ যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ার দাবি জানান। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসাইন বলেন, জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত।