নওগাঁর মান্দা উপজেলায় এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সালিস বৈঠক বসিয়ে এক যুবককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। জরিমানার টাকা দিতে না পারায় তাঁর কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে ওই যুবকের পরিবার। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সালিসে উপস্থিত মাতবরদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হিসেবে নিজেকে দাবি করা যুবকের বয়স ৩৪ বছর। তিনি উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের বৈলশিং গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নওগাঁর আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। অন্যদিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মান্দা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংশ্লিষ্ট নারী। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে যুবক এখন কারাগারে আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর যুবক নিজের জমিতে আমন ধানে সেচ দিচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় অন্য জমিতে সেচ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে একই গ্রামের একটি বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই রাতেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এক সদস্য ও স্থানীয় মাতবরদের উপস্থিতিতে সালিস বসে এবং সেখানে যুবকের দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানা গেছে।
যুবকের স্ত্রী অভিযোগ করেন, জরিমানা দিতে না পারায় তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্প ও জনতা ব্যাংকের সতিহাট শাখার দুই লাখ টাকার চেকে সই নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে মিথ্যা অভিযোগে স্বামীকে আটকে মারধর করা হয়েছে। ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে মাতবরদের প্ররোচনায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্বামীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
সালিসে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ স্থানীয় লোকজনকে উপস্থিত দেখে পরে বৈঠকে যোগ দেন। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যানই যুবককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান সালিস অনুষ্ঠানের কথা স্বীকার করে বলেন, সেখানে উপস্থিত মাতবরেরাই ফাঁকা স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নিয়ে তাঁর কাছে জমা দিয়েছেন।
মান্দা থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, শ্লীলতাহানির মামলায় যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় ওই যুবকও আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।