ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-চলাচলে নতুন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার তাদের একটি বিমান ওমান উপসাগরে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘এম/ভি হুদা’র পেছনের অংশে নিখুঁত গোলাবারুদ ছুড়ে জাহাজটি অচল করে দিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির বেসামরিক নাবিকেরা বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। ইরানি একটি বন্দরে যাওয়ার পর জাহাজটি এ অঞ্চলের জলসীমা ছাড়ার চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী নাবিকদের হামলার লক্ষ্য কক্ষগুলো ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মাসের পর মাস চলা অবরোধ ইরানকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অশোধিত তেল রপ্তানি করতে দেয়নি। একই দিন তারা ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর হয়ে উন্নত অস্ত্র ও নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্য পাঠানো ঠেকাতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন। তেহরান জবাবে উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ব্যাপক পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) রোববার জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কান থেকে প্রায় ১৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘটনায় জড়িয়েছে। ঘটনাটি ৭ নভেম্বরের হলেও সংস্থাটি রোববার দুপুরে তা জানায়। জাহাজের ক্রুদের অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও পরিবেশগত প্রভাব তখনো জানা ছিল না। সংস্থাটির হিসাবে, এ নিয়ে নভেম্বরে হরমুজ-ওমান উপসাগর করিডোরে হামলা বা নিরাপত্তা-ঘটনায় জড়ানো ষষ্ঠ জাহাজ এটি।
আলাদা এক ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে আগুনে জ্বলতে থাকা একটি কার্গো জাহাজ থেকে তারা ২২ জনকে উদ্ধার করেছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, উদ্ধার হওয়া সবাই আরব নাগরিক এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জাহাজে আগুন লাগার কারণ জানায়নি ন্যাশনাল গার্ড।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত লেগে পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন ধরেছে। শুক্রবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) আরও দুটি ট্যাংকারে আগুনের কথা জানায়। বাহিনীটির দাবি, জাহাজগুলো নৌচলাচল ও অবস্থান শনাক্তকরণব্যবস্থা বন্ধ করে অনুমোদনহীন নৌপথ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। মার্শাল আইল্যান্ডস পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘ভেলোস স্যাফায়ার’ খালি অবস্থায় বাহরাইনের পথে থাকার সময় বৃহস্পতিবার একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে আগুন ধরে গেলে একজন নাবিক নিহত হন বলে জাহাজটির গ্রিক মালিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান প্রণালি দিয়ে চলাচল সীমিত করতে চেয়েছে; স্বাভাবিক অবস্থায় বিশ্বের তেল ব্যবহারের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এ পথে যায়। প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে অবরোধ আরোপ করেছে এবং ট্যাংকারগুলোকে প্রণালি পার করাতে নৌ-সুরক্ষা দিচ্ছে।