রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

গাজায় প্রথম শীতকালীন বৃষ্টিতে ডুবল হাজার হাজার তাঁবু, ১২ ঘণ্টায় ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত বলে জানাল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা ১০ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ সহায়তার ফোন পেয়েছে; ঝুঁকিতে আছে উদ্বাস্তু পরিবারগুলো, সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

গাজায় শীতকালীন প্রথম ভারী বৃষ্টিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের হাজার হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকালে বৃষ্টি শুরু হলে বিভিন্ন শিবির ও ভবনের ছাদে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ভিজে যায় কম্বল ও তোশক।

গাজার কর্তৃপক্ষ শনিবার জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় অন্তত ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন, তবে কোনো প্রাণহানির খবর নেই। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বৃষ্টি শুরুর ১০ ঘণ্টায় তারা সহায়তার জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফোন পেয়েছে। তিনটি পরিত্যক্ত বাড়ি ধসে পড়েছে, তবে এতে কেউ হতাহত হননি। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘আমরা যে আশঙ্কা করছিলাম, তা-ই ঘটেছে।’ তাঁর ভাষ্য, কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে।

গাজা সিটির একটি শিবিরে কেউ কেউ তাঁবু মেরামতের চেষ্টা করেছেন, কেউ বালু দিয়ে পানি ঠেকাতে চেয়েছেন, আবার কেউ শিশুদের পানিভরা তাঁবু থেকে বের করে এনেছেন।

গাজা সিটির আল-তুফফাহ এলাকার একটি ভবনের ছাদে তারপুলিনের আশ্রয়ে থাকেন ৩৩ বছর বয়সী মানসুর আল-সাকনি। স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে ৩০ বর্গমিটারের একটি ঘরে থাকেন তিনি। দুই সপ্তাহ আগে নতুন তারপুলিন কেনার জন্য তিনি পানির দুটি ব্যারেল বিক্রি করেছিলেন। তবু বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকেছে। তিনি বলেন, ‘ঘুম থেকে উঠে দেখি আমরা পানিতে ঘেরা। বাচ্চারা কাঁদছিল।’ সাকনি আরও বলেন, ‘আমরা বোমা বা ঠান্ডা—কোনোটিতেই মরতে চাই না।’

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, বন্যাপ্রবণ এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক ঝুঁকিতে আছে। সংস্থাটির ভাষ্য, গাজার ২১ লাখ বাসিন্দার বেশির ভাগই এখনো বাস্তুচ্যুত এবং অনেকেই জীর্ণ তাঁবুতে থাকছেন, যা খারাপ হতে থাকা আবহাওয়ায় সামান্য সুরক্ষা দেয়। ইসরায়েলের অবরোধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় এই বৃষ্টি নামল বলে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।