শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

৩৯ বছরেও সংস্কার হয়নি লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রি ভবন, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা

ভোলার লালমোহন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি ভবনের ছাদ চুইয়ে সরকারি নথি নষ্ট হচ্ছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীরা।

দীর্ঘ ৩৯ বছরেও সংস্কার করা হয়নি ভোলার লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে বিমের রড। বৃষ্টির পানি চুইয়ে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা; দলিল নিবন্ধন করতে আসা সাধারণ মানুষকেও থাকতে হচ্ছে দুর্ঘটনার আতঙ্কে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণের পর ১৯৮৭ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন খুলনা বিভাগের কমিশনার নুরুল ইসলাম এটি উদ্বোধন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়নকাজ হয়নি। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় রেকর্ড রুমে রাখা পুরোনো বালাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অফিসের নকলনবিশ সামিয়া জানান, তিনি ১০ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন। সম্প্রতি অফিস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে তাঁর মাথার ওপর পড়ে; তিনি আহত হন। দলিল লেখক আব্দুল আলী পাটোয়ারী বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে সরাসরি সরকারি বালাম বই ও দলিলের ওপর পানি পড়ে, ফলে অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়। দলিল নিবন্ধন করতে আসা বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ জানান, যেকোনো সময় ছাদের অংশ খসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তবু জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের এই ভবনে আসতে হচ্ছে।

দলিল লেখক সমিতির নেতা আব্দুর রব পাটোয়ারী ও আলমগীর পাটোয়ারী বলেন, এই অফিস থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায়, অথচ দপ্তরটির অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁরা অবিলম্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

অফিসের সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভবনের দুরবস্থা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো প্রতিকার মেলেনি; বিষয়টি স্পিকারকেও জানানো হয়েছে। তিনি পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনের কথা বলেন।