সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সোমবার তেহরানে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে চার দেশের যৌথ বিবৃতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ বৈঠকের সময়সূচি বা কাঠামো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পক্ষে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি এক্স-এ বৈঠকের কথা নিশ্চিত করে জানান, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছে এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে সমর্থন দিচ্ছে। আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের তৎপরতা এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি স্থান পায়।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ় প্রত্যয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীর করা, মতভেদ নিরসন এবং মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত সামর্থ্য কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, মুসলিম দেশগুলো ন্যায়বিচার ও উন্নয়নভিত্তিক একটি আদর্শ বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার পর থেকে আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। নতুন হামলার আশঙ্কাও রয়েছে; উপসাগরীয় দেশ ও বিশ্ব অর্থনীতিকে এর মূল্য দিতে হবে বলে আঞ্চলিক সরকারগুলোর উদ্বেগ আছে। তুরস্কের নেকমেত্তিন এরবাকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গোকহান চিনকারা বলেন, সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো এটা স্পষ্ট করা যে এই দেশগুলো ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলায় অংশ নেবে না। তিনি তাৎক্ষণিক কোনো অগ্রগতির আশা না করার পরামর্শ দেন এবং বলেন, মক্কা জোট ইরানের সঙ্গে কোনো জোট বা যৌথ চুক্তির পথে যাবে বলে তিনি মনে করেন না।