২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। আসামিরা অভিযুক্ত মাত্র; ট্রাইব্যুনালে এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম। আমার দেশ ও প্রথম আলো জানায়, মির্জা আজম এখনো গ্রেপ্তার হননি; বাকি ছয়জন কারাগারে আছেন। ইত্তেফাক তাঁকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রসিকিউশন যা বলছে
অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তখনকার সরকার রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে, আর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন দমন করেছিল। তাঁর দাবি, এই মামলার আসামিরা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারক হিসেবে সেই দমন অভিযানে অংশ নিয়েছেন, সহায়তা করেছেন ও পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনের ঘটনায় এক হাজার ৪০০ আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজার আহত হন; এসব ঘটনাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মূল বিষয়। ইত্তেফাক জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে মিরপুর, উত্তরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁদের পরিকল্পনায় ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ ও নির্যাতন চালানো হয়।
এরপর কী
ইত্তেফাকের খবরে প্রসিকিউটর গাজী তামীমের বরাতে বলা হয়েছে, দ্রুতই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হবে। তবে আমার দেশ, প্রথম আলো বা ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে শুনানির কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই।
প্রসিকিউশনের আনা এসব অভিযোগ নিয়ে আসামিপক্ষ বা তাঁদের আইনজীবীদের কোনো প্রতিক্রিয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।