মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে খুলনার তিন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা, সাবেক এমপি রশীদুজ্জামানও আসামি

খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, কেসিসির এক সাবেক সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে সোমবার পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনার তিন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার আসামিরা হলেন খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদ। একটি মামলায় স্বামী-স্ত্রী শুনু ও ফারুক—দুজনকেই আসামি করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল সোমবার (২৬ অক্টোবর) মামলাগুলো দায়ের করেন। তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য থাকাকালে রশীদুজ্জামান অসাধু উপায়ে ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ২০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। কমিশন তাঁর নামে ১ কোটি ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৩ লাখ ৫ হাজার ২৩৬ টাকা। পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৬ টাকা।

অন্য মামলায় সাবেক কাউন্সিলর শুনুর বিরুদ্ধে ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬০৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর নামে সম্পদ রয়েছে ৭২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬২ টাকার। একই সময়ে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। কমিশনের অভিযোগ, এসব হিসাবের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তিনি আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর স্বামী শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

এ ছাড়া ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২৯ হাজার ১৩২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে মোট সম্পদ রয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৯ টাকার। একই সময়ে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৫ টাকা এবং ব্যয় ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ টাকা।

উল্লেখ্য, এগুলো দুদকের অভিযোগ; আদালতে এসব প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।