কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের এক ভারতীয় শিক্ষার্থীর লাশ কলেজসংলগ্ন একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের ২৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত বুধবার সকালে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সহপাঠীরা তখন তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজ সূত্র অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে ওই শিক্ষার্থী কলেজসংলগ্ন একটি হোটেলে খেতে যান এবং সেখানে মুঠোফোন ফেলে আসেন। মায়ের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে মা তাঁকে ফোনটি নিয়ে আসতে বলেন। এরপর হোটেলের উদ্দেশে বের হয়ে তিনি আর ফেরেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ জাকিরুল ইসলামের ভাষ্য, মেডিকেলের পড়াশোনার চাপ সামলাতে পারছিলেন না ওই শিক্ষার্থী এবং এ কারণে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, তিনি ২০১৭–১৮ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএসে ভর্তি হন। তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষায় ২০২৫ সালের মে ও নভেম্বরে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরিবার ‘মানসিক অসুস্থতা’র কথা বলেছে এবং তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়েছিল। ছেলের পরীক্ষার সময় পাশে থাকতে ভারত থেকে এসে মা কলেজের ছাত্রীনিবাসে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ছেলেকে সব সময় চোখে চোখে রাখতেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (কনস্যুলার ও শিক্ষা) মৃন্ময় কুমার সিং কলেজ পরিদর্শন করেন। তিনি নিহত শিক্ষার্থীর মা ও কলেজে পড়া অন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কলেজের শিক্ষক ও পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কলেজটি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যত্নবান, তবু এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। কলেজে অন্তত ২৭০ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়ছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর কার্যকর না থাকায় লাশ ঢাকার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।