বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকার দখলে হাউছি যোদ্ধাদের মরিয়া চেষ্টা

হাউছিরা ইয়েমেনের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত হাউছি যোদ্ধারা ইয়েমেনের কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলিকে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে তারা এ প্রচেষ্টা করে। হাউছিরা তাইজ ও লাহিজ প্রদেশের কাহবুব পর্বতমালা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সমূহ প্রচেষ্টা দেখা যায়। হাউছিরা রিয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন, যেখানে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর হামলা চালানোর প্রমাণ হিসেবে বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সংযুক্ত করার অনুরোধ জানান। ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে হাউছিদের ওপর বিমান হামলার প্রস্তুতি নেয়। তবে, শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প নিজেই সেই হামলার আদেশ বন্ধ করেন, এমন সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের সম্ভাব্য পদক্ষেপকে প্রভাবিত করে। ইয়েমেনের রাজধানী ২০১৪ সাল থেকে হাউছিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা লোহিত সাগরের মুখের এলাকা দখলে নিয়েছে এবং ইয়েমেনের সামরিক অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করছে। নতুন সংঘাতে সাতশো মানুষ নিহত হয়েছে এবং মানবিক কারণে এক লক্ষ বিশ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এই কারণে ইয়েমেনে স্থাপিত নতুন সংঘর্ষের অবস্থা মানবিক সংকট আরও তীব্র করে তুলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যমতে, হাউছিরা তাদের বিরূদ্ধে চালানো আক্রমণ প্রতিহত করতে পাহাড়ি উচ্চভূমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। এমনকি কৌশলগত কারণে নতুন ফ্রন্ট খোলার সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। সৌদি আরব অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। এই পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘের নজরদারি এবং সম্ভাব্য সংলাপের পথ খুঁজছে ইয়েমেনি সরকারের বাহিনী। ইয়েমেনে পুনঃস্থায়ী শান্তির জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।