রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

প্রিন্টিং মেশিনের নামে আনা কনটেইনারে মিলল ৪০ লাখ ৮০ হাজার জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প, ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি

ঘোষিত পণ্য প্রিন্টিং মেশিন না পেয়ে জাল স্ট্যাম্প ও প্রসাধনী জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখা।

প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণায় আনা একটি কনটেইনার থেকে বিপুল পরিমাণ জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ও প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখা।

রোববার (৮ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, বিশেষ নজরদারিতে থাকা একটি আমদানি চালানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া গেছে। তবে অভিযানে ঘোষিত কোনো প্রিন্টিং মেশিন মেলেনি। এ অভিযানে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে এনবিআরের ভাষ্য।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চালানটি ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-এ, শপ নম্বর ৩সি০০৪এ ঠিকানার চায়না মার্ট নামের প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা হয়। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো চালানটিতে পণ্য হিসেবে ‘প্রিন্টিং মেশিন’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ৫ নভেম্বর সিআইসি ও এআইআর শাখার কর্মকর্তারা চালানটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন। তাতে ঘোষিত পণ্যের বদলে বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প পাওয়া যায়।

এনবিআর জানায়, উদ্ধার হওয়া জাল স্ট্যাম্প মূলত নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এই স্তরের একটি প্যাকেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা, যার বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে এসব জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট তৈরি ও বিক্রি হলে সরকারের আনুমানিক ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

এ ছাড়া চালানে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিরূপণ করা হয়েছে। জাল স্ট্যাম্পজনিত সম্ভাব্য ক্ষতি ও প্রসাধনীর রাজস্ব ফাঁকি মিলিয়ে মোট ঝুঁকি দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।