রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কমিটি বাতিল, আহ্বায়ক পদ থেকে বাদ মনিরা শারমিন

সাড়ে সাত মাস আগে আত্মপ্রকাশ করা সংগঠনটির ৫৩ সদস্যের কমিটি ভেঙে ডা. মাহমুদা আলম মিতুকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আত্মপ্রকাশের সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়েছেন আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

এনসিপির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনারের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে তিন সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কমিটি প্রকাশ করা হয়।

নতুন কমিটিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু আহ্বায়ক এবং আরেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম সদস্যসচিব হয়েছেন। মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পেয়েছেন মনজিলা ঝুমা, যিনি এনসিপির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক। নতুন কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নারীশক্তি। তখন আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্যসচিব হিসেবে মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়। ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছিল; সেই কমিটিই এখন বাতিল হলো।

মনিরা শারমিন নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের পদে রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও দলে একই পদে আছেন। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দায়িত্ব ছাড়তে মনিরা নিজেই সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছিলেন; একই সূত্রের দাবি, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছিল না, ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে মনিরা শারমিন বলেন, “এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।”

এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ে মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ায় প্রথমে গ্রহণ করা হয়নি; পরে আদালতের নির্দেশে তা গ্রহণ করে কমিশন, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হন।