বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমন, ভুট্টা, সয়াবিন, পেঁয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বেড়েছে, কমেছে গম ও আলু: বিবিএস

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এপ্রিল-জুন ২০২৬ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে কৃষি উৎপাদনে মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে; সয়াবিনে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে কৃষি উৎপাদনে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সদ্য প্রকাশিত ‘কোয়ার্টারলি রিপোর্ট অন ক্রপ স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল লেবার ওয়েজ (এপ্রিল-জুন ২০২৬)’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের তুলনায় আমন, ভুট্টা, সয়াবিন, পেঁয়াজ, রসুন ও মরিচের উৎপাদন বেড়েছে; কমেছে আলু, গম ও কয়েকটি সবজির উৎপাদন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমনের উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আবাদি জমি ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪২ একর থেকে বেড়ে ১ কোটি ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৪ একর হয়েছে। শীতকালীন ভুট্টার উৎপাদন ৪৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৭ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

তেলবীজের মধ্যে সয়াবিনে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। উৎপাদন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। পেঁয়াজের উৎপাদন ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। রসুন ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৬ লাখ ৫ হাজার ৪৪৬ মেট্রিক টন এবং শীতকালীন মরিচ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৭ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন হয়েছে।

অন্যদিকে গমের উৎপাদন ১০ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ মেট্রিক টন থেকে কমে ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টনে নেমেছে, যা প্রায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কম। আলুর উৎপাদন ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৫ মেট্রিক টন থেকে কমে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৪ মেট্রিক টন হয়েছে; আবাদি জমিও ১২ লাখ ২২ হাজার ৯২৮ একর থেকে কমে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯ একরে নেমেছে।

প্রতিবেদনে কৃষিশ্রমিকের মজুরির মাসভিত্তিক ওঠানামা এবং নারী-পুরুষের মজুরির বড় ব্যবধানের কথাও উঠে এসেছে। মে মাসে কৃষিশ্রমিকের মজুরি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর জুনে তা কমেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ, রসুন ও সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ায় আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদন বাড়লেই বাজারে দাম কমবে, তার নিশ্চয়তা নেই; সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, আমদানি নীতি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও তা নির্ভর করবে।