শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুদকের মামলা হওয়ার সাত মাস পরও বহাল রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের এএসপি

সম্পদ বিবরণী গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা হলেও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে সাত মাস পার হয়ে গেলেও তিনি এখনো স্বপদে বহাল আছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামি তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীন। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন অবগত নয় বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর পুলিশের রেঞ্জ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ। তাঁরা দুজনেই গণমাধ্যমকে জানান, এএসপি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়ে তাঁদের জানা নেই। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এএসপি আব্দুস ছালাম তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে এই অর্থ ও সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে। দুদকের তদন্তে শাহানা পারভীনের নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদ প্রদর্শিত হয়েছিল। তাঁর বৈধ আয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে তিনি ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক জানায়, গত ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর একটি অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর এই মামলা করা হয়। বর্তমানে সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ সিদ্দিক মামলাটি তদন্ত করছেন। এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল বারী বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় এএসপি আব্দুস ছালাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস ছালামের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সখ্যতা আছে এবং রাতে অবৈধ টাকার লেনদেন হয়। তিনি সবকিছু ম্যানেজ করে রাখেন, যে কারণে দুর্নীতির মামলার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তিনি বহাল আছেন। তাঁর মতে, মামলা হওয়ার পরই তাঁকে প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। অন্যদিকে, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস ছালাম মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযোগ সঠিক নয়। দুদকের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ অনুসন্ধানের পর তাঁর স্ত্রী দুদকের কর্মকর্তাকে বলেছিলেন যে তারাই দুর্নীতি করেন। এই মন্তব্যের কারণেই প্রতিহিংসাবশত মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এবং দুদকের মামলার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি লিখিতভাবে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।” রাজশাহী এসপি মো. মামুন অর রশিদও একই কথা বলেন, “আমি রাজশাহীতে নতুন এসেছি। এএসপি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাকে খোঁজ নিতে হবে।”