সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বসানো অস্থায়ী গতিরোধক (রাম্বল স্ট্রিপ) তুলে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে এগুলো সরানো শুরু হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গতিরোধকের কারণে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছিল।
গত ৩ নভেম্বর আইআইইউসির প্রধান ফটকের সামনে দ্রুতগতির একটি লরির ধাক্কায় একটি মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত ঘটনাস্থলেই নিহত হন; আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়ক, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দায়ীদের শাস্তি ও অবৈধ পার্কিং বন্ধসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রায় সাত ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে জরুরি ভিত্তিতে রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে এগুলো বসানো হলেও ভারী যানবাহনের চলাচলের ধরন বিবেচনায় তা দীর্ঘমেয়াদি বা বিজ্ঞানসম্মত সমাধান ছিল না। এতে যানজটের পাশাপাশি চালকদের উল্টো পথে চলার প্রবণতাও বাড়ছিল। অপসারণের জায়গায় থার্মোপ্লাস্টিকের জেব্রা ক্রসিং এবং 'ধীরে চলুন' লেখা প্রতিফলক সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে।
স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা থেকে সওজের কেন্দ্রীয় রোড সেফটি উইংয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল শিগগিরই এলাকা পরিদর্শন করবে বলে জানান তিনি। দলটি মহাসড়কের জ্যামিতিক নকশা, যানবাহনের চাপ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়সূচি বিশ্লেষণ করে নকশা তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, শুভপুর সেতু থেকে সীতাকুণ্ড অংশে পথচারীদের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে অনীহা এবং কিছু শিল্পকারখানার অবৈধভাবে ডিভাইডার কেটে ফেলাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; অবৈধ ডিভাইডার বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ৪ নভেম্বর বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে আইআইইউসি গেট এলাকায় অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী আধুনিক ফুটওভারব্রিজ দ্রুত নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আধা-সরকারি পত্রও পাঠিয়েছেন।