বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

সাত জাহাজে আঘাতের দাবি ইরানি নৌবাহিনীর, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিস্তৃত জবাবের’ হুঁশিয়ারি

হরমুজে উত্তেজনার মধ্যে নতুন যুদ্ধে মার্কিন রাজনৈতিক সম্পদে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান, যদিও উপসাগরের তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের মাত্রা ছাড়িয়েছে।

পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তরে জড়িত চারটি জাহাজ একযোগে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌ শাখা। বাহিনীটির ভাষ্য, বুধবার তাদের সদস্যরা জাহাজগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করছিলেন।

রয়টার্সের বরাতে আরব নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেওয়া বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইনে ধাক্কা খেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বাহিনীটি বলেছে, উসকানি অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ‘আরও বিস্তৃত জবাব’ দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনে জাহাজগুলোর নাম, মালিকানা কিংবা কারা সেগুলোতে আঘাত করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

নতুন যুদ্ধ হলে মার্কিন স্বার্থে হামলার হুমকি

এদিকে নতুন করে যুদ্ধ বাধলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সম্পদ এবং যুদ্ধে যোগ দেওয়া দেশগুলোর অবকাঠামোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। আনাদোলু এজেন্সির বরাতে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা বা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটলে এ নীতি প্রযোজ্য হবে এবং বিভিন্ন অভিযানিক ইউনিটকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও হামলা চালাবে বলে ধরে নিচ্ছে ইরান, আর ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে তারা ‘অনির্ভরযোগ্য’ মনে করে। এথেন্সে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের পর এ ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর দাবি, মার্কিন নৌ-অবরোধ ভাঙতে ‘নিষ্পত্তিমূলক পদক্ষেপ’ নেওয়ার জন্য দেশের ভেতরে চাপ বাড়ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও অবরোধ ও হরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ মেটেনি। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কয়েক ডজন ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ইরানের সীমান্তের কাছ দিয়ে উড়ে গেছে।

হামলা বাড়লেও তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের চেয়ে বেশি

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়লেও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায় ছাড়িয়ে গেছে। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যে ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। যুদ্ধের আগে এ পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল।

অথচ যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) হিসাবে গত সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১২টি জাহাজে হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন পণ্যবোঝাই একটি কনটেইনার জাহাজ সম্ভবত প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেখানে ডুবে গেছে।

ঝুঁকি এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলো ছোট জাহাজে তেল তুলে প্রণালির বাইরে অপেক্ষমাণ বিশাল ট্যাংকারে স্থানান্তর করছে। সৌদি আরব মিসর হয়ে ভূমধ্যসাগরমুখী পাইপলাইনও ব্যবহার করছে। কেপলারের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে উপসাগর থেকে পাঠানো ইরান-বহির্ভূত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ হরমুজ এড়িয়ে গেছে, যুদ্ধের আগে যা ছিল ১৭ শতাংশ।

তবে প্রণালি দিয়ে চালান এখনো যুদ্ধের আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি কম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারের আশপাশে রয়েছে।