জমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত জটিলতায় ঢাকার ধামরাইয়ে ২৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের উড়াল সড়ক, বাইপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ থমকে আছে। তিন বছর আগে কাজ শুরু হলেও কাওয়ালীপাড়া বাজারে উড়াল সড়কের মাত্র চারটি পিলার নির্মাণের পর কাজ বন্ধ। একই কারণে আটকে আছে সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস লেনের কাজ। যানজট কমার বদলে কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের কালামপুর থেকে কাওয়ালীপাড়া হয়ে দ্বিমুখা বাজার পর্যন্ত ভায়া টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রকল্পে কাওয়ালীপাড়া ও মহিশাষী বাজারে চার লেনের সড়ক ও উড়াল সড়ক, কালামপুরে সড়ক সরলীকরণ ও বাইপাস, মহিশাষীতে আন্ডারপাস এবং সাটুরিয়া এলাকায় সড়ক সোজা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে কাওয়ালীপাড়ায় উড়াল সড়কের কাজ শুরু হয়। মূল সড়ক প্রশস্ত করার কাজ ছাড়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
নির্মাণকাজের কারণে সড়ক আরও সরু হয়ে পড়েছে। কাওয়ালীপাড়া ও মহিশাষী বাজার এলাকায় সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ; সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে চলাচল কঠিন হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালু ও যানবাহনের চাপে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। কাওয়ালীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যানজটের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে চান না। সিএনজিচালক রাসেল মিয়া জানান, একটি গাড়ি থামলেই পেছনে সারি সারি যানবাহন আটকে যায়; রোগী নিয়ে এ অবস্থায় পড়লে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নয়ারহাট শাখা সূত্রে জানা যায়, ২৪ কিলোমিটার সড়ক ও উড়াল সড়ক নির্মাণে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি টাকা। উড়াল সড়কের মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক, বাইপাস ও সার্ভিস সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, অধিগ্রহণের কার্যক্রম ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলমান; দ্রুত অধিগ্রহণ শেষ করে জমি বুঝে পেলে বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, শিগগিরই জটিলতা নিরসন করে অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হবে।