রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

জামালপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫ লাখ টাকা জরিমানা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ২০২০ সালের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত রোববার রায় ঘোষণা করেছেন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত ব্যক্তির নাম মো. মুছা মিয়া (৩৩)। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামে। ২০২০ সালের ওই ঘটনার সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুর বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। অভিযোগ অনুযায়ী, ইমাম প্রায়ই অন্য শিশুদের ছুটি দেওয়ার পর তাকে দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করাতেন এবং একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে একাধিক দিন তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন।

শিশুটির আচরণ ও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন লক্ষ করে পরিবারের সদস্যরা। পরে সে তাঁদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরিবার বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তাঁদের পরামর্শে শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক জানান, মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ শিশুটির পরিবারকে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।