সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

দুদকের আবেদনে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী শামসুর রহমান ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সাত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

দুদকের দাবি, হিসাবগুলোর অর্থ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছিল; শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন, প্রমাণিত হয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও সম্পাদক এম শামসুর রহমান এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা সাতটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি এখনো দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে; তা প্রমাণিত হয়নি।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগের দিন রোববার দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছিলেন। আমার দেশ ও টিবিএসও একই তথ্য দিয়েছে।

আবেদনে যে অভিযোগ

দুদকের আবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে প্লেসমেন্ট শেয়ার কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগও আছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

আবেদন অনুযায়ী, পরে ওই অনুসন্ধানের সঙ্গে শামসুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের একটি অভিযোগ যুক্ত করা হয়। অনুসন্ধান চলাকালে তাঁর নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলোর খোঁজ পায় দুদক। সংস্থাটির দাবি, বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পেরেছে, এসব হিসাবের অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।

আবেদনে বলা হয়, অর্থ সরিয়ে ফেলা গেলে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় মামলা করা, আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং বিচার শেষে অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের পক্ষে বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতে পারে। তাই সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানায় দুদক।

আগেও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

টিবিএসের এক পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট দুদকের আবেদনে শামসুর রহমানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব। সেই আবেদনও করেছিলেন উপপরিচালক জয়নাল আবেদীন, আর তাতে বলা হয়েছিল, শামসুর রহমান দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন।

ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ নিয়ে শামসুর রহমান কিংবা ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কোনো বক্তব্য প্রথম আলো, আমার দেশ বা টিবিএসের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।