বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

ডার্ক ওয়েবে এসবিআইয়ের গ্রাহক তথ্য: অ্যাকাউন্ট হ্যাক নয়, বড় শঙ্কা প্রতারণার

ডার্ক ওয়েবে পাওয়া তথ্যের মধ্যে ৩ হাজার ৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য থাকার কথা স্বীকার করেছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে প্রতারণার ঝুঁকি বেড়েছে।

ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক ফাইলিংয়ে ব্যাংকটি ঘটনাটি স্বীকার করে বিস্তারিত তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে।

এসবিআইয়ের ভাষ্য, ডার্ক ওয়েবে থাকা প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার রেকর্ড প্রাথমিকভাবে যাচাই করে ৩ হাজার ৮৯৭টিতে গ্রাহককে শনাক্ত করা যায় এমন তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে আছে নাম, লিঙ্গ, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, ইমেইল ও বাড়ির ঠিকানা। শাখা ও গ্রাহক তথ্য ফাইল (সিআইএফ) সংশ্লিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর, লিড আইডি এবং ঋণসংক্রান্ত নথির মেটাডেটাও রয়েছে।

ব্যাংকটি জানায়, ১৬ অক্টোবর তাদের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সেবাদাতা, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং ভারত সরকারের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিইআরটি-ইন সম্ভাব্য তথ্য ফাঁস নিয়ে সতর্ক করেছিল। এরপর সাইবার ঘটনা মোকাবিলার প্রক্রিয়া চালু করা হয় এবং তদন্তে সিইআরটি-ইন অনুমোদিত একটি স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। এসবিআইয়ের দাবি, এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক অবস্থা বা সেবার ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি।

ভারতের দ্য ট্রিবিউন জানিয়েছে, Siriusim নামে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এসবিআইয়ের সংবেদনশীল তথ্য হাতে পাওয়ার দাবি করার পর ব্যাংকটির এ ঘোষণা এল। তবে ওই দাবির সত্যতা ও তথ্যের উৎস এখনো যাচাই হয়নি।

তথ্য ফাঁস মানেই কি অ্যাকাউন্ট হ্যাক?

না। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে আসা আর কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়া আলাদা বিষয়। তথ্য ফাঁস হলেই যে পাসওয়ার্ড, পিন বা অ্যাকাউন্টে ঢোকার সুযোগ অপরাধীদের হাতে চলে গেছে, তা নয়। ফাঁস হওয়া তথ্যের সত্যতা ও সম্ভাব্য উৎস এসবিআই এখনো খতিয়ে দেখছে।

তবে বড় ঝুঁকি প্রতারণার। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর বা ঋণের তথ্য জানা থাকায় প্রতারকেরা ব্যাংক কর্মী সেজে ফোন করলে তা সহজেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে। কেওয়াইসি হালনাগাদ, পরিচয় যাচাই বা ঋণ অনুমোদনের অজুহাতে পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য চাওয়া, কিংবা প্রসেসিং ফির নামে টাকা আদায়ের চেষ্টা হতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন গ্রাহকদের অন্ধকারে রাখার অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য পবন খেরা এক্সে দাবি করেছেন, ব্যাংকটি এখনো সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সতর্ক করেনি; তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের জবাবদিহি চেয়েছেন।

গ্রাহকদের করণীয়

এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) পরামর্শের মধ্যে রয়েছে:

  • ওটিপি, পিন বা পাসওয়ার্ড কাউকে না জানানো
  • লেনদেনের এসএমএস ও ইমেইল সতর্কবার্তা চালু রাখা এবং অজানা লেনদেন দেখলে দ্রুত ব্যাংককে জানানো
  • শুধু এসবিআইয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও যাচাই করা গ্রাহকসেবা চ্যানেল ব্যবহার করা
  • অচেনা লিংকে ক্লিক না করা এবং ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন নিয়মিত দেখা
  • প্রতারণার শিকার হলে সরকারি সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০-এ ফোন করা

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বায়োক্যাচের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ব্যাংকিং প্রতারণার নথিভুক্ত ঘটনা তিন গুণ হয়েছে।