মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

মান্দায় বৈদ্যপুর হাটের সাড়ে ৯ লাখ টাকার উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার ইউপি চেয়ারম্যানের

ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও দোকানঘরের জামানত আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর হাটের উন্নয়নে বরাদ্দ করা ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রকল্পের কয়েকটি কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং ব্যয়ের তুলনায় কাজের পরিমাণ কম। চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটবাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির ৯ জুলাইয়ের সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হাটের উন্নয়নে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। চারটি প্রকল্পের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে তিন লাখ টাকা, পানপট্টি গলি ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সড়ক ঢালাই এবং কাঁচাবাজারের নালার ওপর স্ল্যাব নির্মাণে তিন লাখ টাকা, তরকারি বাজারে বসার ছাউনি ও নলকূপ স্থাপনে তিন লাখ টাকা এবং দুটি ডাস্টবিন কেনায় ৩৫ হাজার ৮৬২ টাকা রাখা হয়।

সরেজমিনে হাটের বিভিন্ন স্থানে ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ঢালাই করা সড়ক, নালার ওপর কয়েক ফুট স্ল্যাব এবং তরকারি বাজারে ইটের খুঁটির ওপর টিনের ছাউনি ও একটি নলকূপ দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নলকূপটি স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। দুটি ডাস্টবিনের বরাদ্দ থাকলেও একটি প্লাস্টিকের ডাস্টবিন দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানান, হাটের বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং দোকানপ্রতি মাসে ৬০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না, তা তাঁরা নিশ্চিত নন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যথাযথ তদারকির অভাবেই অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং সব কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে; দোকানঘরের জামানতের টাকা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের তদারকিতে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের বলেন, কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় প্রকল্প সভাপতির অনুকূলে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই; খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।