নাটোরের লালপুরে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে আপন চাচাতো বোন শিশু দুটির একজনের বয়স চার বছর, অন্যজনের তিন। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১২টার মধ্যে উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের বেড়িলাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দৈনিক আমার দেশের লালপুর উপজেলা প্রতিনিধি সোমবার বিকেলে এ খবর দিয়েছেন; এ প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ সেই খবর থেকে নেওয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে আমার দেশ জানায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু দুটি বাড়ির পাশে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তারা বাড়ির পেছনে এক শিশুর বাবার পুকুরে পড়ে যায়। শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বেলা আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে এক শিশুর মা পুকুরে দুজনকে ভাসতে দেখেন। দ্রুত তাদের তুলে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
একসঙ্গে খেলাধুলা করে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর এমন মৃত্যুতে পরিবার দুটিতে শোকের ছায়া নেমেছে। বেড়িলাবাড়ি গ্রামজুড়েও শোকের আবহ বিরাজ করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, খবর পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত বা অপমৃত্যুর মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি; ইউনিয়ন পরিষদের কোনো বক্তব্যও তাতে নেই।
ঝুঁকিতে ছোট শিশুরা
গত ২৯ জুন ঢাকায় এক পরামর্শ সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, সাঁতার শেখার বয়সে পৌঁছানোর আগেই দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়; সাঁতার শেখার বয়স পর্যন্ত ধরলে এ সংখ্যা প্রায় ৪০। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত সভার খবর অনুযায়ী, এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক শিশুযত্নকেন্দ্র ও সাঁতার শেখানোর সরকারি প্রকল্পের প্রথম ধাপে দুই লাখের বেশি শিশু সেবার আওতায় এসেছে। দ্বিতীয় ধাপের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।