চট্টগ্রামে একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী হাসানুর রশিদ রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পদ্মা ব্যাংকের করা চেক প্রতারণার মামলায় মঙ্গলবার রাতে নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, বুধবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ব্যাংক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স বেঙ্গল ট্রেডিংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাসানুরের বিরুদ্ধে আটটি ব্যাংকে ঋণখেলাপি, চেক ডিজঅনার ও প্রতারণার অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছে বলে ওই সূত্রগুলো জানায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নগরের অক্সিজেন মোড় এবং সীতাকুণ্ডের উত্তর সলিমপুর এলাকার সম্পত্তি গোপনে একাধিক ব্যাংকে বন্ধক দেওয়া হয়। ব্যাংকে বন্ধক দেওয়ার আগেই জামানত হিসেবে থাকা জমি স্ত্রীর নামে দানপত্র করে নামজারিও করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে ১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় সুদ-আসলে বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। নিলামে তুলতে গেলে আইএফআইসি ব্যাংক তাতে বাধা দেয় বলে জানা গেছে।
ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ঢাকা ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও তার তিন বছর আগেই ওই জমি স্ত্রীর নামে লিখে দেওয়া হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংকের পাওনা ২০০৮ সাল থেকে নয় কোটি টাকার বেশি। ইসলামী ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউসিবিএলসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আমদানির নামে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে; এসব ব্যাংকেও বন্ধকি সম্পত্তি নিয়ে একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ আছে।
ব্যাংকগুলো জানায়, ট্রেডিং ও আমদানির নামে ঋণ নিলেও একপর্যায়ে ব্যবসায় লোকসানে পড়েন হাসানুর। একই সম্পত্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে বন্ধক রাখা এবং মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির কারণে আটকে থাকা ঋণের টাকা উদ্ধার নিয়ে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত।