শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতে মারা যাওয়া শতবর্ষী বাবাকে শেষবার দেখলেন বাংলাদেশি মেয়ে

মেহেরপুরের মুজিবনগরে ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় ফিরদৌসী খাতুন মৃত বাবাকে শেষবার দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দীর্ঘদিনের পারিবারিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেও মৃত্যুর পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেয়েছেন মেহেরপুরের এক নারী। বৃহস্পতিবার মুজিবনগর উপজেলার স্বাধীনতা সড়কের ১০৫ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় বেলতলায় ভারতে মারা যাওয়া বাবাকে দেখেন বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন।

মারা যাওয়া মোনরুদ্দিন শেখের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামে। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ১০০ বছরের বেশি ছিল। তাঁর ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর আগে বিয়ে হয় মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুন পাড়ায়। বিয়ের পর থেকে তিনি বাংলাদেশেই বাস করছেন।

বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষবারের মতো তাঁকে দেখার সুযোগ করে দেয় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ। পরিবারের সদস্যরা দুই বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

সীমান্তের দুই পাশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারগুলোর এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। কাঁটাতারের কারণে আত্মীয়দের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় মৃত্যু বা অসুস্থতার মতো মুহূর্তেও অনেক সময় একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয় না। এ ঘটনায় দুই বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে একটি পরিবার অন্তত শেষ দেখাটুকু করতে পেরেছে।