বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরার সময় ডায়েরিতে তারিখ বসানো নিয়ে ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল; ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি, বললেন তদন্ত কর্মকর্তা

সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের মামলায় জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, অভিযানের সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ বা ডিজিটাল প্রমাণ তিনি পাননি; জেরা রোববার পর্যন্ত স্থগিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় গতকাল বুধবার হট্টগোল হয়েছে। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তদন্ত কর্মকর্তা নিজের ডায়েরিতে তারিখ বসিয়েছেন—আসামিপক্ষের আইনজীবীর এমন দাবির পর আদালতকক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এদিন মামলার ১৫তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে পঞ্চম দিনের মতো জেরা করছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সহিদুর রহমান। নিরাপত্তার স্বার্থে অভিযুক্তকে কারাগার থেকে জুম কলের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত রাখা হয়েছিল। জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি ঘটনার দিনই ডায়েরিতে নোট নিয়ে তারিখ লিখে রেখেছিলেন। তখন আইনজীবী আদালতকে জানান, সাক্ষী মিথ্যা বলছেন এবং হাত থেকে কলম লুকিয়ে তিনি এখনই ডায়েরিতে তারিখ বসিয়েছেন। অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানও জুমে যুক্ত থেকে এ নিয়ে আপত্তি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে ডায়েরি ও নোটবুক বিচারকের আসনে এনে দেখাতে নির্দেশ দেন। আদালতের সরাসরি পরিদর্শনে দেখা যায়, ডায়েরির সূচিপত্রে সাক্ষী নিজ হাতে ‘১৮-১০-২০২৫’ তারিখটি নতুন করে লিখেছেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডা হয়।

জেরা আবার শুরু হলে তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে কোনো ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ তিনি সংগ্রহ করতে পারেননি। র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে উল্লিখিত অভিযানের সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র কিংবা জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলের তথ্য বা ডিভাইস পাওয়ার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান। অভিযানের পর তৈরি নির্বাহী তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তের নাম না থাকার কথাও তিনি স্বীকার করেন। কল লোকেশন, এলআরএল বা আইপিডিআর না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এগুলো ত্রুটিপূর্ণ মনে হওয়ায় নেওয়া হয়নি; তবে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষজ্ঞের নাম বলতে পারেননি। অভিযানে উদ্ধার অস্ত্র তিনি নিজ চোখে দেখেননি বলেও জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবী সরাসরি দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা কখনো র‍্যাব-৮ বা র‍্যাব সদর দপ্তরে যাননি; কর্মকর্তা এ দাবি সত্য নয় বলে জানান।

বেলা প্রায় ১টার দিকে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী মিজানুল ইসলামের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আগামী রোববার পর্যন্ত জেরা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়। প্রসিকিউশন রোববারই জেরা শেষ করার শর্তে সম্মত হলে ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম স্থগিত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে এই মামলা চলছে; গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

একই দিন ট্রাইব্যুনাল-২ গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন দিন ১৭ নভেম্বর ধার্য করেছেন। সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থ থাকায় তাঁর আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ হয়।