আপডেট, ২৯ জুলাই ২০২৫: কে২-১৮বি গ্রহে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে করা সাম্প্রতিক গবেষণার উপসংহার বহু সমালোচকের তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত চারটি পর্যবেক্ষণেও ওই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ডাইমিথাইল সালফাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি—যা এই তত্ত্বের অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল।
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের খোঁজে বিজ্ঞানীরা আগে বহু রহস্যময় সূত্র অনুসন্ধান করেছেন—মঙ্গলের মিথেন গ্যাস থেকে শুরু করে শুক্র গ্রহের ফসফিনের মেঘ পর্যন্ত। কিন্তু এ পর্যন্ত যতদূর জানা গেছে, মহাবিশ্বে আমরা এখনো একাই।
তবে সম্প্রতি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দাবি করেছেন, তারা বহির্জাগতিক জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত পেয়েছেন—আমাদের সৌরজগতের বাইরে, ১২০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এক বৃহৎ বহির্গ্রহে, যার নাম কে২-১৮বি। একাধিকবার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে এমন এক বিশেষ অণু রয়েছে, যা পৃথিবীতে কেবল জীবিত প্রাণী—বিশেষত সামুদ্রিক শৈবাল—উৎপন্ন করে থাকে।
গবেষণার প্রধান লেখক জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিক্কু মধুসূদন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“আমরা আগেভাগে জীবনের উপস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত দাবি করতে চাই না। তবে আমাদের পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা হলো, কে২-১৮বি উষ্ণ মহাসাগরে আচ্ছাদিত এবং সেখানে প্রাণ বিদ্যমান থাকতে পারে।”
তিনি এটিকে “এক বিপ্লবী মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করে বলেন, মানবজাতি প্রথমবারের মতো কোনো বাসযোগ্য গ্রহে সম্ভাব্য জীবনের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছে।
গবেষণাটি বুধবার Astrophysical Journal Letters-এ প্রকাশিত হয়। অন্যান্য বিজ্ঞানীরা একে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও চিন্তা-উদ্রেককারী প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করলেও, প্রমাণের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানতে তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এই আবিষ্কার যদি ভবিষ্যতে নিশ্চিত হয়, তবে এটি মানব ইতিহাসে বহির্জাগতিক জীবনের অস্তিত্ব প্রমাণের পথে এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে আপাতত, কে২-১৮বি ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে।