মাদকের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাগেরহাটের সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার। রোববার (২৫ অক্টোবর) বাগেরহাটের নতুন পুলিশ লাইনে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, যিনি একসময় এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলাম। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও নাগরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ পারভীন আক্তার বলেন, কলেজে মাদকের বিস্তারের বিষয়টি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং তাদের নিয়ে কলেজের কিছু চিহ্নিত জায়গা পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাদকের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। হল থেকে বহিষ্কার করার পরও কেউ কেউ রাতে হলে ফিরে মাদক সেবন করছে বলে তিনি জানান।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূজার ছুটিতে তিনি কয়েকটি ফোন পান যে কিছু শিক্ষার্থী কলেজের পুকুরের মাছ চুরি করেছে। তিনি হল সুপারকে ওই শিক্ষার্থীদের আসন বাতিল করতে বলেন। অধ্যক্ষ বলেন, এর পর তাঁকে জানানো হয়, ওই শিক্ষার্থীরা হুমকি দিয়ে বলেছে, আগের অধ্যক্ষকে যেভাবে ফাঁসানো হয়েছিল, এই অধ্যক্ষ ওই পথে গেলে তাঁকেও ফাঁসানো হবে। তিনি প্রশাসনকে জানিয়ে রাখেন যে এ অবস্থায় তাঁর ভয় লাগে, তবে সাধ্যমতো কলেজটিকে মাদকমুক্ত করার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে তিনি অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ অফিসারকে, পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি এই মাদকের কারণে।’ তিনি বলেন, আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপর অন্যদের পরিষ্কার করা হবে। পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, মাদক নির্মূল, জনবল ও যানবাহনের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি কথা বলেন। আইজিপির দাবি, পুলিশ বাহিনীকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল, আর যাঁরা বাহিনীকে দুর্বল করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গুজব ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা যাবে না।