সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বেশকিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে রক্ষণশীল খ্রিস্টানরা চোখেমুখে আবেগ নিয়ে তাদের অনুসারীদের সতর্ক করছেন—“এখনই তওবা করুন, না হলে পিছনে পড়ে যাবেন।” এক নারী টিকটকার কেঁদে কেঁদে বলছেন, তিনি স্বপ্নে দেখেছেন যিশুর আগমনের বার্তা দিতে চাইছেন, কিন্তু কেউই তাঁর কথা শুনছে না।
অন্যদিকে আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টে দুই খ্রিস্টান প্রচারক ভিডিও বার্তায় জানাচ্ছেন, যারা বিশ্বাসী ছিলেন তারা সবাই হঠাৎ পৃথিবী থেকে উঠে গেছেন, আর যারা রয়ে গেছেন, তারা অদূর ভবিষ্যতে আগুন, প্লেগ ও নানা দুর্যোগের সম্মুখীন হবেন।
র্যাপচার আসলে কী?
বাইবেল বিশেষজ্ঞ বার্ট এরম্যানের মতে, “র্যাপচার” শব্দটি বাইবেলে নেই। তবে যেসব খ্রিস্টান এই বিশ্বাসে আস্থাশীল, তারা মনে করেন শেষ সময়ের আগে এক বিশেষ মুহূর্তে সত্যিকার খ্রিস্টানরা আকাশে উঠে যিশুর সঙ্গে মিলিত হবেন। যারা বিশ্বাসী নন, তারা পৃথিবীতে থেকে যাবেন এক ভয়ঙ্কর দুর্দশার সময় পার করার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বাসের চিত্র
২০২২ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৭ শতাংশ খ্রিস্টান বিশ্বাস করেন পৃথিবী এখন “শেষ সময়ের” দিকে এগোচ্ছে। তবে মোট আমেরিকানদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। এ ধরনের বিশ্বাস বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলে—যেমন যারা শেষ সময় আসছে মনে করেন, তারা জলবায়ু পরিবর্তনকে তুলনামূলক কম গুরুতর সমস্যা বলে মনে করেন।
ভবিষ্যদ্বাণীর সূত্রপাত
এই নতুন আলোচনার সূত্রপাত দক্ষিণ আফ্রিকার এক পাদ্রি জোশুয়া ম্লাকেলার ইউটিউব ভিডিও থেকে। তিন মাস আগে পোস্ট করা সেই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২৩ বা ২৪ সেপ্টেম্বরেই ঘটতে পারে র্যাপচার। ভিডিওটি ৫ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে।
তবে ইতিহাস বলছে, র্যাপচার ভবিষ্যদ্বাণী কোনো নতুন বিষয় নয়। ১৮০০ সাল থেকেই বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রচারক এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। ১৯৭০-এর দশকে হাল লিন্ডসের বই The Late Great Planet Earth ও পরবর্তীতে Left Behind সিরিজ র্যাপচার ধারণাকে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে দেয়।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
অস্ট্রেলিয়ার ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার জোসি ম্যাকস্কিমিং বলেন, “অনেকেই চার্চ ছেড়ে যাওয়ার পরও ভয়, উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। পরিবার বা বন্ধুরা র্যাপচারের কথা বলায় তারা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন।”
ফলে, ভবিষ্যদ্বাণীগুলো প্রতিবার ভুল প্রমাণিত হলেও, ভয় আর উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে।