মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পরিচালিত সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বরগুনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথিও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মীর আহম্মেদ আলী সালাম সাংবাদিকদের জানান, দুদকের দুজন কর্মকর্তা বুধবার পৃথকভাবে আবেদন করেছিলেন, আর আদালত বৃহস্পতিবার আদেশ দিয়েছেন।
সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। আবেদনে বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশনটি ২০১৫-১৬ করবর্ষ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত ৯৯ লাখ ৪ হাজার টাকা কর জমা না দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কর জমার রেকর্ড তৈরি করেছে এবং অডিট প্রতিবেদনে আয়কর খরচ দেখিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এ ছাড়া সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা ও ৪৬৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনসহ অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে দুদক মামলা করেছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফাউন্ডেশনের শুরু থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী অংশ, বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আয়কর নথি জব্দ চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক খায়রুল হাসান। আবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর আয়-ব্যয়ের সঠিকতা এবং মালিকানাধীন অন্য কোনো সম্পদ আছে কি না, তা যাচাই করতে আয়কর নথি পর্যালোচনা করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যাবে না।