বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বেলা আড়াইটায় ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান এ তথ্য জানান।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী খায়রুল ইসলাম বগুড়া শহরের গালাপট্টির একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টায় তিনি তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের (২৭) মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার বাসে করে জয়পুরহাটে পাঠান। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাসটি শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা–জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চারজন নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান। তাঁরা বাপ্পিকে জোর করে নামিয়ে মারধর করেন, স্বর্ণ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং তাঁকে গুজিয়া হাটমণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান। ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সুকৌশলে ছিনতাই করেছিল; তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় এসআই মো. জাহাঙ্গীর কবির ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবির দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে যৌথ অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তরীনয়হাট এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে দিনাজপুরের হাকিমপুর থেকে আলমগীর হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়; তাঁর বাড়ি থেকে ২৯ লাখ টাকা মেলে। পরে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম (২৬) ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। সাদিকুলের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ এবং আসাদুজ্জামানের পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামের গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি এবং রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ছিনতাই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান চলছে।