মেহেরপুর পৌরসভার নতুন পানি শোধনাগার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে চার বছর আগে, কিন্তু সেখান থেকে এখনো পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। অন্যদিকে পুরোনো শোধনাগারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন পৌরসভার অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা।
পৌরসভার হিসাব অনুযায়ী, শহরে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার; সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার। অর্থাৎ প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় প্রায় ৭০ লাখ লিটার পানি কম সরবরাহ হচ্ছে। শুধু উৎপাদন নয়, সরবরাহব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে পানির সরবরাহ লাইন প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় পাইপের ভেতরে আয়রন জমেছে; মোট লাইনের প্রায় ৫৫ শতাংশে সরবরাহ বন্ধ। বড় বাজার, মুখার্জিপাড়া ও হালদারপাড়ায় একেবারেই পানি যাচ্ছে না। পৌরসভার সুপেয় পানির গ্রাহক ৪ হাজার ৩৭০ জন।
নতুন ভূগর্ভস্থ শোধনাগারের নির্মাণকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১৫ সালে শুরু করে; কাজ শেষ হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে ২০২৪ সালের নভেম্বরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পৌরসভার প্রকৌশলী হারুন উর রশিদ বলেন, দক্ষ জনবলের অভাবে নতুন শোধনাগার চালু করা যাচ্ছে না, আবার পুরোনোটি সংস্কারেও অনেক টাকা দরকার। পানির পাইপলাইনে আয়রন জমেছে, নতুন পাইপলাইন বসানো প্রয়োজন; সরকারি উদ্যোগ ছাড়া পৌরসভার পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা কঠিন। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের শোধনাগার চালাতে চার থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত কারিগরি কর্মী দরকার। পৌরসভার প্রধান সহকারী এস এম ওবায়দুল ইসলামের ভাষ্য, নতুন শোধনাগার চালু করলেই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হবে কি না, সে প্রশ্ন আছে; পাইপলাইনের অবস্থা পরীক্ষা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি, যার জন্য সরকারি বরাদ্দ লাগবে। শোধনাগার চালু করতে কত টাকা লাগবে ও কবে নাগাদ তা সম্ভব, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেহেরপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিনের দাবি, শোধনাগারের কাজ সম্পন্ন করে সেটি চালু অবস্থায় পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে; পৌরসভা চাইলে যেকোনো সময় এটি চালু করতে পারে।
দুই প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের এমন পার্থক্যের মধ্যেই নিরাপদ পানির প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রায় সাত বছর ধরে সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, পোকা ও শেওলা আসছে; তাঁরা সেই পানি পান করেন না। এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, পানিতে কখনো কেঁচোও আসে বলে তাঁকে প্রতিদিন ২০ লিটারের বোতলজাত পানি কিনতে হয়। অনেকে নিজ উদ্যোগে সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে পানি তুলছেন।