মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার সকালে ঘটা এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৩০টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি জানান স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল; নিজেকে সভাপতি দাবি করে তিনি বিরোধে জড়ান। এ নিয়ে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। গত সোমবারও সংঘর্ষে কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের সমর্থকেরা শতাধিক লোক নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলে। স্থানীয়দের একজন জানান, ভোরে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের পর সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ তাঁদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর হামলা ও লুটপাট হয়েছে। বাচ্চু মোড়ল হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমদাদ ও তাঁর লোকজন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এবং নিজেরা মারামারি করে তাঁর ওপর দায় চাপাচ্ছেন; তিনি সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছেন। এমদাদ মাতুব্বর বলেন, এত কিছুর পরও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায়। পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই আধিপত্য বিস্তার করতে চান, কথা না শুনলেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অপরাধীদের তালিকা করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।