বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সাড়ে ৭ মাস পর মুক্তি পেলেন রবি কর্মীরা: ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে ইউপিডিএফের হাত থেকে মুক্ত

খাগড়াছড়ি থেকে অপহৃত তিন কর্মচারীকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়; নিরাপদ মুক্তির ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন

সাড়ে ৭ মাস পর মুক্তি পেলেন রবি কর্মীরা
ছবি: অপহরণকারীরা মোবাইল টাওয়ারের তার কেটে দিয়ে স্থানীয় নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন করে দেয় নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় | সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির পানছড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৭ মাস আগে অপহৃত রবি মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানির তিন কর্মচারী অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। জানা গেছে, পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ (প্রসিতপন্থী) সন্ত্রাসীদের দাবিকৃত মুক্তিপণ ও চাঁদাবাবদ মোট ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার একটি হোটেল থেকে তিনজনকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ইউপিডিএফ (প্রসিতপন্থী) সন্ত্রাসীরা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার পুজগাং এলাকা থেকে রবি কোম্পানির তিন কর্মী—টাওয়ার অপারেটর বিকাশ চাকমা (৪৮), টেকনিশিয়ান মো. ইসমাইল মিয়া বাবু এবং আব্রে মারমাকে অপহরণ করে। এ সময় অপহরণকারীরা মোবাইল টাওয়ারের তার কেটে দিয়ে স্থানীয় নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। দীর্ঘ আলোচনার পর রবি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউপিডিএফ-এর সমঝোতায় মোট ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে মুক্তির পথ তৈরি হয়। এর মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নগদ ৩ কোটি টাকা হস্তান্তরের পর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার একটি হোটেল থেকে তিন কর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ৩ কোটি টাকার মধ্যে দেড় কোটি টাকা ২৫ সেপ্টেম্বর এবং অবশিষ্ট দেড় কোটি ধাপে ধাপে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রবি কর্তৃপক্ষ।

মুক্তি পাওয়ার পর ওই তিনজন রবি কোম্পানির প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামে অবস্থান করেন। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর তাদের পরিবারে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সেনা অভিযানের পরও কীভাবে ইউপিডিএফ এতদিন ধরে অপহৃতদের নিরাপদে আটক রাখতে পারল এবং পরে চট্টগ্রাম শহর থেকেই মুক্তিপণ আদায় করল—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

খাগড়াছড়ি সদরের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একদিকে সেনা অভিযান চলে, সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হয়; অথচ এত বড় অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করে ইউপিডিএফ অপহৃতদের নিরাপদে ছেড়ে দেয়। সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা না থাকলে এটি সম্ভব নয়।”

 

রবি কর্মীদের দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস পর মুক্তি পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। তবে মুক্তিপণ আদায়ের প্রক্রিয়া ও নিরাপদ মুক্তির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।