সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানে আগুন, নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আড়াই ঘণ্টা অবরোধ; মালিকদের হিসাবে ৬৯০ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সোমবার আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে; গাজীপুরে মোতায়েন রয়েছে ১০ প্লাটুন বিজিবি।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার আশুলিয়া ও সাভার, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে দিনভর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আশুলিয়ায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়, গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি পোড়ানো হয়, আর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক প্রায় আড়াই ঘণ্টা অচল থাকে। পোশাকমালিকদের দুই সংগঠনের হিসাবে এদিন অন্তত ৬৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল।

আশুলিয়া ও সাভার

ইনকিলাব ও আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরে নিউএজ নামের একটি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি দিয়ে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। আশপাশে বিক্ষোভ ছড়ালে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। হা-মীম গ্রুপের সামনে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়লে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে। ইটের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ আহত হন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে নরসিংহপুরের একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে হা-মীম গ্রুপের একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।

নয়া দিগন্ত জানায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজারে অবরোধকারীদের সরাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। আমার দেশের সাভার প্রতিনিধি জানান, সাভারের হেমায়েতপুর, তেঁতুলঝোড়া, ফুলবাড়িয়া ও উলাইলেও কারখানা ছুটি দেওয়া হয় এবং শ্রমিকেরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিছিল করেন।

গাজীপুর ও কালিয়াকৈর

কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ও সফিপুর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও বিজিবি তাঁদের সরাতে গেলে ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন। দুপুরের দিকে গাজীপুর মহানগরের নাওজোরে পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয় এবং সময় টিভির এক প্রতিবেদক ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা হয়। ইনকিলাবের কালিয়াকৈর প্রতিনিধির হিসাবে, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের বরাতে বলা হয়, ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মাঠে আছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপার আমজাদ হোসেন জানান, আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। আমার দেশের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে পুলিশের সঙ্গে চন্দ্রা থেকে মৌচাক পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে যান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, মহাসড়কে প্রকৃত শ্রমিক কম, বহিরাগতরাই বিশৃঙ্খলা করছে; এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ফতুল্লার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কুতুবআইল কাঠেরপুলে জড়ো হয়ে পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে নামেন। টিবিএস জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভুইগড়ে আগুন জ্বেলে সড়ক আটকে রাখা হয়। বৃষ্টির পর পুলিশ ও বিজিবি শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, ৩টা থেকে যান চলাচল শুরু হয়েছে।

কারখানা বন্ধ, দুই পক্ষের অবস্থান

বিজিএমইএর সহসভাপতি মিজানুর রহমান টিবিএসকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকেরা কাজে না ফেরায় সংগঠনের ৬৭০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল; এর ৩৮২টি গাজীপুর ও ময়মনসিংহে, ২২৩টি আশুলিয়া ও জিরাবোতে এবং ৬৫টি মিরপুরে। বিকেএমইএ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে আরও প্রায় ২০টি কারখানা বন্ধ ছিল।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলছেন, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান মজুরিতে সংসার চলে না। বর্তমানে সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। চন্দ্রার এক শ্রমিক ইনকিলাবকে বলেন, তাঁরা পেটের দায়ে দাবি তুলছেন, কিন্তু কারখানা বা গাড়িতে আগুন দেওয়া তাঁদের কাজ নয়। বিজিএমইএ রোববার জানিয়েছিল, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকেরা কাজে না ফিরলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় কারখানা বন্ধ রাখা হবে, যাতে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা মজুরি পান না। সরকার রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে; সোমবার বিকেলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়।