বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

কুলিয়ারচরে ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের বালুর অভিযোগ, জুলাইয়ে বাধার পরও আবার একই অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজে ভিটাবালুর মতো বালু ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের; উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারকে মানসম্মত বালু ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে এলাকাবাসীর বাধার মুখে একবার কাজ বন্ধ হয়েছিল। কিছুদিন পর কাজ শুরু হওয়ার পর সম্প্রতি আবারও একই অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর-পিরিজপুর পাকা সড়কের দক্ষিণ গোবরিয়া (জাব্বা বাড়ি) মোড় থেকে পূর্ব গোবরিয়া ইশাতুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনূস অ্যান্ড ব্রাদার্স। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখে তাঁরা বাধা দেন। তখন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। নির্মাণকাজের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগের পর তৎকালীন উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারও নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, পাথরের সঙ্গে যে বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখতে ভিটাবালুর মতো। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে তাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আলী জিন্নাহ বলেন, ‘ওই রাস্তায় নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করার কথা শুনেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের বালু সরিয়ে মানসম্মত বালু দিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ পরিদর্শন, ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা এবং কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।