কুমিল্লার আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কাহিনি প্রকাশ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, নিহত সুমাইয়ার মা তাহমিনা বেগম মাঝে মাঝে নগরীর বাবুস সালাম জামে মসজিদের খতিব ইলিয়াস হুজুরের কাছে ঝাঁড়ফুকের জন্য যেতেন। সেই সূত্রে পরিচয় হয় ওই মসজিদের খাদেম ও কবিরাজ মোবারক হোসেনের সাথে। গত এক মাস ধরে তাহমিনার বাসায় যাতায়াত করছিলেন তিনি।
গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তাহমিনা বেগম তার মেয়ে সুমাইয়ার জিন তাড়ানোর জন্য মোবারককে বাসায় ডাকেন। এ সময় সুমাইয়ার কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন মোবারক। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মা তাহমিনা এগিয়ে এলে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন মোবারক। পরে সুমাইয়ার কক্ষেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর বাসা থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পাশের একটি স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে মূল আসামিকে শনাক্ত করা হয়। সোমবার রাতে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর এলাকা থেকে মোবারককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, হত্যাকাণ্ড দুটি মোবারক একাই সংঘটিত করেছে। তবে তদন্ত চলছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন—কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৫২) এবং তার মেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩)।
এ ঘটনায় নিহত তাহমিনার বড় ছেলে তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।