হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে ডাকা উন্মুক্ত দরপত্রে কোনো দরদাতা অংশ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাবনা এখন সংশোধন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মূল প্যাকেজ জিডি-১-এর প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৪৩ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা (আমদানি শুল্ক ও ভ্যাটসহ)। ই-জিপি পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্র ডাকা হয়। সম্ভাব্য দরদাতাদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হলেও কেউ অংশ নেননি।
প্রকল্প পরিচালক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন, দরদাতাদের অংশ না নেওয়ার পেছনে তিনটি ঝুঁকি কাজ করেছে। প্রথমত, ইতিমধ্যে নির্মিত বিশাল স্থাপনার ভেতরে বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের কাজ করার ঝুঁকি। দ্বিতীয়ত, বসানো ক্ল্যাডিং খুলে কাজ শেষে আবার লাগানোর সময় বড় ক্ষতির আশঙ্কা। তৃতীয়ত, টার্মিনালটি এখন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত ঠিকাদারদের অধীনে থাকায় বাইরের কারও জন্য কাজের পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সময়ই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নথি অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর। ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চালু করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে দরপত্র ডাকার সুযোগ না থাকায় টেলিটক সরাসরি ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে আগে থেকেই হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি থাকায় তাদের মাধ্যমে নতুন নেটওয়ার্কের সমন্বয় দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে; এই যুক্তিতে ডিপিএম অনুমোদন করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, ডিপিএমে ৯টি পজিশনে মাইক্রো বিটিএস, অনশোর সরবরাহ ও সেবা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত ঠিকাদারদের কাজ যুক্ত হওয়ায় ব্যয় ২৬ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা বাড়ছে। ব্যয়বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে টেলিটকের জেনারেল ম্যানেজার (পিঅ্যান্ডআই) ডি এম নূরুল হুদাকে আহ্বায়ক করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আছেন।