ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলাদা দুটি অভিযানে ছয়টি ‘স্বর্ণের ডিম’ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা সোনার মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। টিবিএসের খবর অনুযায়ী, অভিযান চালানো হয় রোববার (১ নভেম্বর)। সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয় বলে পদ্মা টাইমস ও ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে।
ফ্লাইট থেকে নামানো হয় যাত্রীকে
বিজ্ঞপ্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা। উড়োজাহাজটির সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। টিবিএস ওই যাত্রীর নাম মোহাম্মদ মিনহাজ বলে উল্লেখ করেছে। তাঁকে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি স্বর্ণের ডিম উদ্ধার হয়, যেগুলোর ওজন ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
ডিমগুলো ওই যাত্রী কোথায় বা কীভাবে লুকিয়ে রেখেছিলেন, বিজ্ঞপ্তি বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট করা হয়নি। অন্য এক অভিযানে বিমানবন্দরের যাত্রী ওঠানামার সংযোগসেতু, অর্থাৎ বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা অবস্থায় আরও তিনটি স্বর্ণের ডিম পান শুল্ক গোয়েন্দারা। এগুলোর ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
দাম না পেয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোনাগুলো আগে আবুধাবি থেকে দেশে আনা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এটি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া ভাষ্য; সোনার প্রকৃত উৎস ও পরিবহনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র আছে কি না এবং সেই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টিবিএস জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
টিবিএস ওই যাত্রীকে আটক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, প্রতিবেদনগুলোতে তা জানা যায়নি। অভিযোগ প্রমাণের আগ পর্যন্ত তিনি কেবল অভিযুক্ত। তাঁর কোনো বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে আসেনি।