গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় মে মাসে শুরু হওয়া ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে আরও চারটি দেশে পৌঁছেছে। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে নাইজেরিয়া, যেখানে রাজধানী আবুজায় এক নারীর শরীরে ২০ অক্টোবর ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরন শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, ১৫ মে কঙ্গো প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর নাইজেরিয়া পঞ্চম দেশ, যেখানে এই ভাইরাস ধরা পড়ল।
কঙ্গোর বাইরে এর আগে উগান্ডা, ফ্রান্স ও কেনিয়ায় রোগী পাওয়া যায়। উগান্ডা অবশ্য নিজ ভূখণ্ডে প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করেছে। ফ্রান্সের রোগী ছিলেন কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করে ফেরা এক মানবিক স্বাস্থ্যকর্মী; আফ্রিকা সিডিসি জানায়, দেশে ফেরার পর তাঁর উপসর্গ দেখা দেয় এবং জুনের শেষ দিকে রোগ শনাক্ত হয়।
নাইজেরিয়া ও কেনিয়ায় পরিস্থিতি
ডব্লিউএইচও বলছে, নাইজেরিয়ার রোগী সম্প্রতি উগান্ডা ভ্রমণ করেছিলেন। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এনসিডিসির বরাতে এএফপি জানিয়েছে, তিনি ৩ অক্টোবর আবুজায় পৌঁছান। ৭ অক্টোবর উপসর্গ দেখা দিলে ১১ অক্টোবর তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। এখন তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন। তাঁর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে, আর এনসিডিসি জরুরি ঘটনা ব্যবস্থাপনা কাঠামো সক্রিয় করেছে।
কেনিয়ায় এ পর্যন্ত নয়জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন একজন। দেশটির প্রথম রোগী কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় আসেন এবং ৫ অক্টোবর নাইরোবিতে মারা যান। টিআরটি ওয়ার্ল্ড কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, নবম রোগী প্রথম রোগীর নিকটাত্মীয়, ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ; কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁর সংক্রমণ ধরা পড়ে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সব সংক্রমণ একটি গুচ্ছের মধ্যেই সীমিত, এর বাইরে ছড়ানোর প্রমাণ মেলেনি।
মূল চাপ কঙ্গোতেই
ডব্লিউএইচওর ৮ অক্টোবরের প্রাদুর্ভাব প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত কঙ্গোয় ৮ হাজার ৭২৮ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ২০৫ জনের। সাতটি প্রদেশের ৬৪টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে রোগী মিলেছে, সবচেয়ে বেশি ইতুরি প্রদেশে। আফ্রিকা সিডিসির হালনাগাদ হিসাবে, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার ৬০০ এবং মৃত্যু প্রায় ৪ হাজার ৬০০; মৃত্যুহার প্রায় ৪৮ শতাংশ। দুই সংস্থার তথ্যের সময়সীমা আলাদা হওয়ায় সংখ্যায় এই পার্থক্য।
আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যঁ কাসেয়া একে ইতিহাসে ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে বিস্তৃত ইবোলা প্রাদুর্ভাব বলে উল্লেখ করেছেন। আনাদোলু জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে সংক্রমণ ঠেকাতে ২৮ অক্টোবর আফ্রিকার স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন।
টিকা নেই, চলছে পরীক্ষা
ডব্লিউএইচও বলছে, বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো নেই; সম্ভাব্য চিকিৎসা যাচাইয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সম্ভাব্য টিকার প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর আশা করছে সংস্থাটি; অক্সফোর্ড ও মডার্না আলাদাভাবে এই ধরনের জন্য টিকা তৈরি করছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের অন্যান্য তরল কিংবা দূষিত বস্তুর সংস্পর্শে ভাইরাসটি ছড়ায়। সুপ্তিকাল ২ থেকে ২১ দিন; উপসর্গ শুরুর আগে কেউ সংক্রমণ ছড়ান না। শুরুতে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিব্যথা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা দেখা দেয়। আগস্টের মূল্যায়নে সংস্থাটি কঙ্গোর জন্য ঝুঁকি ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ও বৈশ্বিক ঝুঁকি ‘নিম্ন’ বলেছিল। আক্রান্ত দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও।