রাজশাহীর মাঠজুড়ে এখন পাকা আমন ধানের সোনালি শীষ। কোথাও বাতাসে দুলছে পাকা ধান, কোথাও আগাম জাতের ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন তাঁরা।
গত বুধবার তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, নিচু জমি ও আগাম রোপণ করা ক্ষেতে পাকা শীষের আধিক্য। কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, কেউ কাটা ধান আঁটি বেঁধে জমিতে স্তূপ করছেন। ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলাকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি কম হওয়ায় ধান নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। পরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছ ও শীষ ভালো হয়েছে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম। গোদাগাড়ীর কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানান, আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় তিনি কাটা শুরু করেছেন; এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতি হয়নি। বড় দুর্যোগ না হলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি। পবার কৃষক রজব আলী ভালো ফলনের আশার কথা বললেও উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ এবং ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৩৬ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ীতে ২৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর এবং তানোরে ২১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জেলার এই দুই উপজেলাতেই আমন আবাদ সবচেয়ে বেশি।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ বলেন, এবার সেখানে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং মাঠের সার্বিক অবস্থা ভালো। রোগবালাই ও পোকা মোকাবিলায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান পুরোপুরি ঘরে না ওঠা পর্যন্ত অতিবৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তানোর, মোহনপুর ও পবার কৃষকেরা জানান, আমন তোলার পর একই জমিতে অনেকে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ রবি শস্য চাষ করবেন। আগাম ধান কাটা শেষ হলে দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরের ফসল লাগানো যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।