শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

টঙ্গীবাড়ীর বেতকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪ ঘরের ১৮টিই তালাবদ্ধ, সচ্ছলদের নামে বরাদ্দের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকল্পের ৩৪টি ঘরের মধ্যে ১৮টিই এখন তালাবদ্ধ পড়ে আছে।

৩ নভেম্বর ইউনিয়নের দীপাডাঁ ও দক্ষিণ রায়পুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীপাডাঁ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছয়টি ঘরের মধ্যে মাত্র তিনটিতে পরিবার বাস করছে; বাকি তিনটি তালাবদ্ধ। দক্ষিণ রায়পুরায় নির্মিত ২৮টি ঘরের মধ্যে ১৫টি তালাবদ্ধ, ১৩টিতে উপকারভোগীরা পরিবারসহ থাকছেন। তালাবদ্ধ কয়েকটি ঘরে স্থানীয়রা কাঠ ও লাকড়ি মজুত রেখেছেন, বাকিগুলো একেবারেই খালি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে উপকারভোগী বাছাইয়ে সরকারি নির্দেশনা ঠিকমতো যাচাই করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এমন লোকদের ঘর দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজস্ব জমি, বাড়ি ও আর্থিক সামর্থ্য আছে। অথচ ইউনিয়নে অনেক প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আবাসন সংকটে ভুগছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যাঁদের থাকার জায়গা নেই তাঁরা ঘর পাননি, আর যাঁদের সব আছে তাঁরা ঘর পেয়ে তালা দিয়ে রেখেছেন। তাঁরা অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, সচ্ছলদের নামে দেওয়া বরাদ্দ বাতিল এবং প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

বেতকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। টঙ্গীবাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া জানান, ঘর তালাবদ্ধ থাকা বা সচ্ছলদের বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ তাঁদের কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।