সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

প্রায় তিন দশকের হবিগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে গ্যাস-পানির সংকট, ড্রেনেজ ও নিরাপত্তার ঘাটতিতে ব্যাহত উৎপাদন

১৯৯৮ সালে ধুলিয়াখালে গড়ে ওঠা শিল্পনগরীর ৬০ প্লটের মধ্যে ৫০টিতে কারখানা হয়েছে; শিল্প মালিকদের অভিযোগ, বর্জ্য শোধনাগার নেই, চুরি-ডাকাতিও বাড়ছে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রায় তিন দশক আগে হবিগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী এখন বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। গ্যাস, পানি, ড্রেনেজ ও নিরাপত্তার ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগে প্রায়ই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা জোরদারে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ। এতে উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়ছেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।

১৯৯৮ সালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধুলিয়াখালে ১৫ একর জমিতে এ শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে স্বল্পমূল্যে ৬০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০টিতে কারখানা হয়েছে, একটি প্লট মামলা-জটিলতায় আটকে আছে এবং বাকি ৯টি প্লট বরাদ্দের পরও আজ পর্যন্ত অব্যবহৃত। এসব প্লট নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শিল্পমালিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সবচেয়ে বড় ভোগান্তি গ্যাস ও পানির সংকট। গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অনেক উদ্যোক্তা সিলিন্ডার গ্যাসে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠার সময় নির্মিত বড় পানির ট্যাংক আজও চালু হয়নি, ফলে কারখানাগুলোকে প্রতিদিন পানির সংকটে ভুগতে হয়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পণ্য পরিবহনেও সমস্যা হয়। এখানকার কয়েকটি কারখানায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

হবিগঞ্জ বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহসভাপতি মীর জমিলুন্নবী ফয়সাল বলেন, বরাদ্দ পাওয়া একাধিক প্লটে আজও কারখানা হয়নি, অথচ বিসিক কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ বাতিলও করেনি। তাঁর ভাষ্য, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আগুন নেভানোর জন্য পাইপলাইনের পানি বা জলাধারের অভাব এবং দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় সমস্যা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এখানে এখনো কোনো বর্জ্য শোধনাগার নেই। মালিক সমিতির মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।

বিসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে, পানির সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে কারখানাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসনে কাজ শুরু হয়েছে; বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন এবং গ্যাস সংযোগ পেয়ে তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারছে। তিনি আরও জানান, বিসিক কার্যালয় নিজেও জনবলসংকটে আছে—কর্মকর্তার পাঁচটি পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র দুজন, অফিস স্টাফের চারটি পদ দীর্ঘদিন শূন্য।