বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

শুঁটকি মৌসুম শুরুর আগেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুবলার চরে ১২০০ ট্রলার

৩০ অক্টোবর শুঁটকি মৌসুম শুরুর কথা থাকলেও আজ সকাল থেকে ট্রলার দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে; বন বিভাগের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম শুরুর আগেই বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রায় ১২০০ মাছ ধরার ট্রলার একযোগে চলে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ট্রলারগুলো দুবলার চরের উদ্দেশে রওনা হয়। অথচ বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, গত রাত থেকে চিলা বাজার ও জয়মনিঘোল এলাকায় কঠোর নজরদারি ছিল এবং মাইকিং করে জেলেদের অনুমতি ছাড়া ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রায় ১২০০ ট্রলার একযোগে যাত্রা করে দুবলার চরে চলে গেছে; জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানেননি। এ ঘটনায় বন বিভাগের নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলার চরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ মাসব্যাপী শুঁটকি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা, যা চলবে আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের পাস-পারমিট নিয়ে নির্ধারিত সময়ে জেলেদের যাওয়ার কথা। প্রতি বছর এ মৌসুমে আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে হাজারো জেলে ও মহাজনের সমাগম হয়। এবার প্রায় ১০ হাজার জেলে ও মহাজন আসবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। জেলেদের জন্য অস্থায়ী ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল, দোকান ও মাছ কেনাবেচার ডিপো নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ; তবে এসব স্থাপনা বানাতে সুন্দরবনের গাছপালা কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত মৌসুমে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি টাকা; এবার লক্ষ্য আট কোটি টাকা। তবে দস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের শঙ্কায় জেলে-মহাজনদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়তে পারে। দস্যু আতঙ্কের পাশাপাশি ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, ট্রলারডুবি ও বৃষ্টিতে শুকাতে দেওয়া মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছেন জেলেরা।