রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ঈশ্বরগঞ্জে কৃষি ব্যাংক লুটের চেষ্টা: গ্রেপ্তার একজনের জবানবন্দিতে নিরাপত্তারক্ষীর নাম, তিনিও গ্রেপ্তার

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত জানিয়েছেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো ছিল; শনিবার সকালে নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখা থেকে টাকা লুটের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার কাওসার আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুল ইসলামও এই পরিকল্পনায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। শনিবার সকালে সোহাগী বাজার এলাকা থেকে মাজহারুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছমা আক্তারের আদালতে কাওসার জবানবন্দি দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জবানবন্দিতে আরও দুজনের নাম এসেছে, যাঁদের মধ্যে ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষীও আছেন। মাজহারুল সোহাগী ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের বাসিন্দা; প্রায় তিন বছর ধরে তিনি ওই ব্যাংকে অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করছিলেন।

গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে সোহাগী বাজারে ব্যাংকের শাখায় টাকা লুটের চেষ্টা হয়। পেশায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি কাওসার প্রায় দুই লাখ টাকা ঋণ পেতে ব্যাংকে গিয়েছিলেন। ঋণ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশ আগে জানিয়েছিল। ঘটনার পর ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, জবানবন্দিতে কাওসার জানিয়েছেন ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ও সাজানো ছিল। ঋণ নিতে গিয়ে ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষী মাজহারুলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন সময় আড্ডা দিতে দিতে তাঁরা চুরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা ছিল, কাওসার ভল্টের টাকা লুট করবেন, আর নিরাপত্তারক্ষীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে চুরির নাটক সাজানো হবে, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। পরে লুট করা টাকা দুজন সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।

ওসি আরও বলেন, কোন দিক দিয়ে ব্যাংকে ঢুকতে হবে, তালা না কেটে শিকল কাটতে হবে, দরজার সিটকিনি হালকা লাগানো থাকবে—এসব সবই নিরাপত্তারক্ষী কাওসারকে ব্যবস্থা করে দেন। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাওসার ব্যাংকে ঢুকে মাজহারুলকে বাঁধতে শুরু করেন। দড়ির বাঁধন বেশি শক্ত হয়ে গেলে মাজহারুল তা কিছুটা ঢিল করতে বলেন। চাকু দিয়ে গিঁট আলগা করতে গেলে অসাবধানতায় মাজহারুলের হাত সামান্য কেটে যায়। হঠাৎ রক্ত দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এতে পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য, দুজনই অভিযুক্ত; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।