সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে জনবল ও উপকরণের সংকটে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাতটি কেন্দ্রের কোনোটিতেই পর্যাপ্ত কর্মী নেই। এর ওপর প্রায় এক বছর ধরে ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ অনিয়মিত থাকায় চিকিৎসাসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সদর ক্লিনিকে প্রতিটিতে পাঁচটি করে পদ নির্ধারিত থাকলেও অধিকাংশই এখন শূন্য। স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন মডেল কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্ট থাকলেও পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা, আয়া এবং পিয়ন-কাম-নৈশপ্রহরীর পদ ফাঁকা। উমারপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রে পাঁচটির মধ্যে চারটি পদই শূন্য; একজন ফার্মাসিস্ট একাই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
ঘোড়জান ইউনিয়নে তিনজন কর্মরত থাকলেও দুটি পদ শূন্য, আর নিজস্ব ভবন না থাকায় কেন্দ্রটি ভাড়া করা ঘরে চলছে। স্থল ইউনিয়নে চারটি পদ ফাঁকা থাকায় একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে কোনোমতে সেবা চলছে। সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট ও নৈশপ্রহরী উপজেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকায় সেখানেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের কেন্দ্রটিও ভাড়া ঘরে, মাত্র একজন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে।
ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না পেয়ে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র মানুষ। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা সাদিয়া খাতুন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। এখান থেকেই নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ও ওষুধ নিতাম। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে কোনো সেবাই পাচ্ছি না। এখানে নরমাল ডেলিভারি করার কথা থাকলেও লোকবলের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।”
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা সুলতানা রুমি জানান, সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে চারটির স্থায়ী ভবন থাকলেও সদিয়া চাঁদপুর কেন্দ্রের ভবন জরাজীর্ণ, আর দুটি কেন্দ্র টিনের ঘর ভাড়া নিয়ে চালাতে হচ্ছে। জনবলসংকটের পাশাপাশি ওষুধ ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি আছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে সরবরাহ ও সেবা স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ এবং অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোর জন্য স্থায়ী ভবন নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।