রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীতে ভবন ৫০ হাজার ছাড়ালেও বাড়েনি সড়কের প্রশস্ততা, যানজট ও ঝুঁকি বাড়ছে

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের পর নতুন ভবন গড়ে উঠলেও সড়ক সরু থাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণের ভোগান্তি ও অগ্নি-ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহ নগরীতে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে, বাড়ছে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ; কিন্তু সেই তুলনায় সড়কের প্রশস্ততা বাড়েনি। ফলে বিভাগীয় এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে। পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ পাড়ি দিতেও কখনো কখনো ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে নাগরিক ভোগান্তির পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে শহরে এক থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন ছিল ৪৪ হাজার ৫৭১টি; সাততলার বেশি ভবন ছিল ২৭০টি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত এক থেকে সাততলা পর্যন্ত নতুন ভবন হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৯টি এবং আট থেকে ২২তলা পর্যন্ত আরও ৫৩টি।

এরপর ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত এক থেকে সাততলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৯৯৫টি এবং আটতলা বা তার বেশি উচ্চতার ভবনের ৭৯টি। সব মিলিয়ে এখন শহরে এক থেকে সাততলা ভবন ৫০ হাজার ৫৬৫টি এবং আট থেকে ২২তলা ভবন ৪০২টি। গাঙ্গিনারপাড়, চরপাড়া মোড়, নতুনবাজার ও পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় যানজটের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

অভিযোগ আছে, শহরের অধিকাংশ ভবন নীতিমালা মেনে তৈরি হয়নি; অনেক ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি, কোনো কোনোটি সড়ক ঘেঁষে নির্মিত। সিটি করপোরেশনের নগর-পরিকল্পনাবিদ মানস কুমার বিশ্বাস বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে, তবে জোর করে কাউকে নিয়ম মানানো যায় না।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান বলেন, অন্যায়ভাবে নির্মিত কোনো বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে নির্মাণের সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল; এখন উচ্ছেদ অভিযান চালানো বা ভবন ভেঙে ফেলা অমানবিক হবে। তিনি জানান, নতুন ভবনের অনুমোদনে বিল্ডিং কোড অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নগরায়ণ বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঠেকাতে চলতি বছরের ১৮ জুন যাত্রা শুরু করেছে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ; এখন ভবন নির্মাণের অনুমোদনের দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষের। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রধান শহর হিসেবে সড়কের প্রশস্ততা আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। সড়ক বাড়াতে গেলে অনেক অবকাঠামো ভাঙতে হবে বলে তিনি জানান; মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সরকার কোনো পরিকল্পনা নিলে সড়ক প্রশস্ত করা যেতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাঁদের কোনো পরিকল্পনা নেই।